বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী হত্যা: এজাহারভুক্ত ৪ আসামি গ্রেপ্তার, প্রধান সন্দেহভাজন বিদেশে

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—

  • আরমান হক বিপু (২১)
  • মো. ইসমাঈল হোসেন ফাহিম (২১)
  • কামরুল ইসলাম রানা (৩০)
  • আলী হোসেন (৫০)

পুলিশ জানায়, নিহত সাদমান সাইফ রাইভি (২৩) সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি তেজগাঁও এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।

গত ২৩ মার্চ রাত ৯টার দিকে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ তার বাবা গেন্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

একই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবার জানতে পারে, উত্তর কুতুবখালী এলাকার একটি খাল থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে গিয়ে জার্সিতে ‘RAIVI’ লেখা দেখে মরদেহটি সাদমানের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৪ মার্চ ভোরে দুই আসামি সাদমানকে কাঁধে হাত দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের পেছনে আরও দুইজন ছিলেন। এছাড়া ২৩ মার্চ রাতে একটি ছাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিকটিমসহ আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, ২৪ মার্চ ভোর থেকে ২৬ মার্চ সকালের মধ্যে কোনো এক সময় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সাদমানকে হত্যা করে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন মো. জুবায়েরকে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

পরবর্তীতে ২৮ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।