বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যাত্রাবাড়ীতে ব্ল্যাকমেইল চক্রের হোতা গ্রেপ্তার: দেড় মাসে ১০ নারীকে টার্গেট করে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এক ভয়াবহ সিরিয়াল অপরাধীর সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তে ধরা পড়ে একজন ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নারীকে একই কৌশলে ফাঁদে ফেলতেন। গত দেড় মাসের তদন্তে অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলেছে, এবং অভিযুক্ত নিজেও ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে তরুণীদের টার্গেট করতেন। এরপর কৌশলে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখল করতেন। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর পরিচিত অন্যান্য নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ধীরে ধীরে আস্থা অর্জন করতেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাইরে ডেকে নিয়ে যেতেন। কখনো আত্মীয় সেজে, কখনো ভিন্ন পরিচয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। পরে নির্জন বাসায় আটকে রেখে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হতো, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে নিয়মিত টাকা দাবি করা হতো। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণী।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই নতুন নতুন শিকার খুঁজে বের করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মোবাইল ফোন থেকে একাধিক ভুক্তভোগীর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০)। তিনি কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত ছিলেন না বলে জানা গেছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ১৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমানে তার মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আরও ভুক্তভোগীর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

ডিএমপি বলছে, সামাজিক লজ্জার কারণে অনেক ভুক্তভোগী সরাসরি অভিযোগ না করে সাধারণ জিডি করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় পুলিশ নাগরিকদের, বিশেষ করে তরুণীদের, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক যোগাযোগ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।