বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যশোর কেশবপুরে মসজিদে মাইক ব্যবহার করে পুলিশের ওপর হামলা, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, যেখানে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যদিও পরে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে, কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয় যে, “পুলিশ আসামিকে মেরে ফেলেছে।” এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৫০-৬০ জন লোক হঠাৎ করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় আহত হন এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ। কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “গভীর রাতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আটকের পর আসামি নিজেই পুলিশকে আঘাত করে। এরপর স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশকে থেকে ছিনিয়ে নেয়।”

পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আজ (২ এপ্রিল) দুপুরে যশোর কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা ঘোষরা বিল থেকে পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে শান্তি বজায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, আগামীতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা ও উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হবে।