বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কাজ শুরু, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় জোর

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

যশোরে ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছেন Tarique Rahman। তিনি বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল চিকিৎসা দেওয়া নয়—বরং মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা এবং সচেতন জাতি গড়ে তোলা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে Jashore Medical College-এ ১০ তলাবিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি নতুন নয়—২০০৬ সালে Khaleda Zia এটি অনুমোদন করেছিলেন, তবে দীর্ঘদিন পর আজ আবার এর কাজ শুরু হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থায় ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার চিকিৎসা অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতা, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে একজন চিকিৎসককে অতিরিক্ত রোগী দেখতে হচ্ছে, যা মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতের পথে বাধা। রোগীর সংখ্যা কমানো গেলে প্রতিটি রোগীকে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, Dhaka Medical College Hospital-এর ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই নতুন হাসপাতাল নির্মাণ এবং বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) মডেলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বেসরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সরকার রোগীদের দ্রুত সেবা দিতে পারবে এবং ব্যয় সরকার বহন করবে। এতে স্বল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।