বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার পলাতক শাওন গ্রেপ্তার, অস্ত্র–মাদক–বিস্ফোরক উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে আলোচিত একটি হত্যা মামলার পলাতক মূল আসামি শাওনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের সোনামিয়ার টেক ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সেনাবাহিনী জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা হত্যা মামলার মূল আসামি শাওন ওই এলাকায় অবস্থান করছে। শাওনের বিরুদ্ধে গত বছর প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল।

তথ্যের ভিত্তিতে বসিলা আর্মি ক্যাম্প থেকে পাঠানো একটি অপারেশন দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে শাওনকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে তার আরও চার সহযোগী—আনোয়ার (২৫), শাকিল (২৩), শুভ (২০) ও বেলাল (৩৬)—কে আটক করা হয়।

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৮টি পেট্রোল বোমা, ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি, ১টি চাইনিজ ছুরি, ৮টি সামুরাই, ৫টি চাপাতি, ১টি রামদা, ৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫ গ্রাম ইয়াবা (গুঁড়ো), ৪৭৫ গ্রাম গাঁজা, ৬০ পুরিয়া গাঁজা, ৪টি মোবাইল ফোন, ৫৮টি বিদেশি কয়েন এবং মাদক পরিমাপে ব্যবহৃত ১টি ডিজিটাল ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরও জানান, শাওনকে গ্রেপ্তারে আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল, তবে সে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সর্বশেষ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তাকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদ উদ্যানের সোনামিয়ার টেক এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার একটি হটস্পট হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, শাওন ওই এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, শাওনের ভাই নয়ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করায় দীর্ঘদিন ধরে শাওন আইনের আওতার বাইরে ছিল।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত বছর চাঁদ উদ্যানে আলামিন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিল শাওন। কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শাওনের ভাই নয়ন র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করত এবং অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে শাওনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিত। একই সঙ্গে নয়ন রায়েরবাজার, চাঁদ উদ্যান, সোনামিয়ার টেক ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযানের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধচক্রের একটি বড় অংশ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।