বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মোহাম্মদপুরে চাপাতি দেখিয়ে ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসত চক্রটি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার গেটের সামনে দুই বোনের কাছ থেকে ব্যাগ ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই চালাত।

বুধবার (৩ জুন) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম

পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ভোরে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরা দুই বোন মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় বাসার সামনে নামার সময় একটি পিকআপ ভ্যানে করে আসা তিন ব্যক্তি তাদের চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরপর তাদের কাছ থেকে ট্রলি ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রথমে জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে আনোয়ার নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মাদক, ডাকাতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের মামলা রয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি একসময় মোহাম্মদপুরেই থাকত। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকেই ঢাকায় এসে নিয়মিত ছিনতাই চালাত। চক্রের সঙ্গে পিকআপ চালক ও মালিকের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’-কে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ছিনতাই হওয়া একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিদের একজনের স্ত্রীকে ব্যাগ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে, যার কারণে কিছু আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতে যাত্রী ওঠানামার স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।