দেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও সঠিক পুষ্টি তথ্যের অভাবে ভোক্তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যপণ্যের মোড়কের সামনের অংশে সহজবোধ্য ও সতর্কতামূলক পুষ্টি তথ্য যুক্ত করা হলে এ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা তুলে ধরা হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় “প্যাকেটজাত খাদ্যের সম্মুখভাগে সহজবোধ্য সতর্কতামূলক লেবেলিং” বিষয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় পলিসি বিশেষজ্ঞ তাইফুর রহমান জানান, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন। তবে অধিকাংশ ভোক্তা মোড়কের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টি তথ্য বুঝতে না পারায় তারা স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় মোড়কের সামনের অংশে স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় পুষ্টি সতর্কতা প্রদর্শন অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং ‘রিডিউসিং ডিমান্ড ফর আনহেলদি ফুড’ কর্মসূচির বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, বিশ্বের ৪৪টি দেশে ইতোমধ্যে ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং কেবল একটি তথ্য প্রদর্শনের পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। এর মাধ্যমে মানুষ সহজেই অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাদ্য চিহ্নিত করতে পারবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে এ ধরনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।