বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের পর আশ্রয়হীন রোজিনা, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে কথিত পুশইনের ঘটনায় বাংলাদেশে আসা রোজিনা খাতুন রোমানা নামে এক নারী বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করা অন্যরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেলেও রোজিনা এখনো পরিবারহীন ও আশ্রয়হীন অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

শুক্রবার (১৩ জুন) তাকে গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের পীরতলা গ্রামে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা মানবিক কারণে খাবার ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তে পুশইনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই সময় সীমান্তের একটি অংশ দিয়ে সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। রোজিনা সেই দলেরই একজন।

সীমান্ত অতিক্রমের পর আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি একটি আমবাগানে আশ্রয় নেন। পরে তার সঙ্গীরা চলে গেলেও তিনি পথ হারিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকেন। বর্তমানে স্থানীয়দের সহায়তায় পীরতলা গ্রামে অবস্থান করছেন।

রোজিনা দাবি করেছেন, তার বাড়ি চট্টগ্রামের Patiya এলাকায়। তিনি জানান, ভারতে প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তবে তার দেওয়া তথ্য এখনো সরকারি পর্যায়ে যাচাই করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোজিনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অনেক সময় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। তারা দ্রুত তার পরিচয় শনাক্ত করে নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

গাংনী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোজিনার দেওয়া তথ্য যাচাই করে পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা করা হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেছেন, প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি না এবং কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে এখানে এসেছেন। বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।