বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মেসির শেষ মহারণে আবারও মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা-স্পেন

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের দুই চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে আবারও একটি জমজমাট ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব উঠেছে। এবার সেই ম্যাচটি লিওনেল মেসির সম্মানে এবং তার সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এর আগে ২০২৪ সালের পর থেকে নানা জটিলতায় দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে প্রস্তাবিত ফিনালিসিমা ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালেই প্রথমবারের মতো লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের সম্ভাব্য দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পান ফুটবলপ্রেমীরা।

তবে এবার মেসির সম্মানে আর্জেন্টিনা-স্পেনের আরেকটি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত। আর্জেন্টিনার রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ওই ম্যাচ দিয়ে কেন মেসিকে বড় বিদায়ী অভ্যর্থনা দেওয়া যায় না?”

যদিও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও তার সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে এমন একটি আয়োজনের ধারণা ফুটবলবিশ্বে আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর স্পেনের সাফল্য উদযাপন করেছেন জোয়াকিন মারিয়া ডি আরিস্তেগি। তিনি ইয়ামাল ও রদ্রিদের নেতৃত্বে স্পেনের এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্বকাপ শেষে স্পেনে জাতীয় দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।

স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতের কাছে আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের আলাদা প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। তার মতে, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ী তথা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি লড়াই ফুটবলে বিশেষ মাত্রা যোগ করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন একটি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন জোয়াকিন মারিয়া। তিনি ছোটবেলা থেকেই বার্সেলোনার সমর্থক। তার মতে, মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুস্কেটস, কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে ও জাভির নেতৃত্বে বার্সেলোনার দীর্ঘ আধিপত্য রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ‘ক্ষত’ তৈরি করেছিল।

বিশ্বকাপে নিজের অবস্থান নিয়েও মিশ্র অনুভূতির কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূত। স্পেন তার নিজের দেশ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তার কর্মস্থল। তাই বিশ্বকাপজুড়ে দুই দলের ম্যাচই তিনি আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেছেন। তবে ফাইনালে আবেগের দ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে নিজের দেশের দল স্পেনকেই সমর্থন করেছেন বলে জানান তিনি।

মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই আয়োজনের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে দুই মহাদেশের দুই ফুটবলশক্তির আরেকটি ম্যাচ এবং সেখানে মেসির সম্ভাব্য শেষ উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে হতে পারে এক বিশেষ আয়োজন।