বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি, অভিযোগ টিআইবির

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

সরকার গঠনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এসব অব্যাহতির ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি, যা উচ্চশিক্ষা খাতের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে টিআইবি অভিযোগ করে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটির ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষা খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পদে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন ও প্রভোস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উপাচার্য নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ এবং অস্থিরতার ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও দেখা গেছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

তবে শিক্ষা খাতে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও তুলে ধরেছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, স্কুলে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি, প্রতিবন্ধী শিশুদের বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রণয়ন।

টিআইবির মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সংস্থাটি এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।