মঙ্গলবার , ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২৮শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনগণের যুদ্ধ—গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার রাতে ঢাকার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায়কে উপেক্ষা করে। এরপর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু হলে বাঙালি সৈনিক, কর্মকর্তা, ছাত্র-যুবকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও বীরত্বের ঘটনা রয়েছে, যেগুলো এখনো যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা জরুরি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শুধু কয়েকটি ভাষণ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সামরিক-বেসামরিক মানুষ জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমই ছিল মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় শক্তি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সদস্যদের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তারা বিদ্রোহ করে যুদ্ধ শুরু না করলে স্বাধীনতার ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। তাদের আহ্বানে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল এবং তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে কাজ করতে হবে।

দেশে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকার ভুল করলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা সংশোধন করবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমসহ সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।