সোমবার , ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ময়না যুদ্ধ দিবস পালিত

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ময়না যুদ্ধ দিবস পালিত হয়েছে আজ নাটোরে। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে দশটায় ময়না স্মৃতি সৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণ শেষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ আসনের (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু’র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান। সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ময়না যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হলেও শহীদদের হত্যাকান্ডের স্থান, কবরগুলো এখনও অরক্ষিত।

নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানান দিতে এগুলো সংরক্ষণে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যুদ্ধে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বা স্বীকৃতি প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২৫ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীকে সারাদেশে মোতায়েন শুরু করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২৫ রেজিমেন্টের একটি দল ঢাকা থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে যাওয়ার পথে নাটোর ও পাবনার সীমান্ত এলাকায় মুলাডুলিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে।

ছত্রভঙ্গ হয়ে রেজিমেন্টের সাতটি গাড়ি বহর লালপুর উপজেলার আকন্দ সড়ক পথে ময়না গ্রামে ঢুকে পড়ে। চন্দনা নদী পার হতে না পেরে ৩০ মার্চ গ্রামের সৈয়দ আলী মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন আমবাগানে আশ্রয় নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। খবর পেয়ে নাটোর ও লালপুরের মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসারসহ সর্বস্তরের মানুষ ময়না গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ঘিরে ফেলেন। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। দীর্ঘ সময়ের এ অসম যুদ্ধে শহীদ হন অন্তত ৪০ বাঙালী।

বাঙালীদের গড়ে তোলা প্রাণপণ এ প্রতিরোধে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে মেজর খাদেম হোসেন রাজাসহ সাতজন গমের জমিতে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাদের পিটিয়ে হত্যা করেন। এদের কবরও ময়নাতেই। মেজর রাজা সম্পর্কে টিক্কা খানের ভাগ্নে।একাত্তরের ৩০ মার্চ ময়না গ্রামের ঐ যুদ্ধই নাটোরের প্রথম প্রতিরোধ এবং একমাত্র সরাসরি যুদ্ধ।