বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘মিসাইল হামলার আতঙ্কে দিন কাটছে’—ঝুঁকির মধ্যেও ফ্লাইট দেওয়ায় ইউএস-বাংলাকে ধন্যবাদ প্রবাসীর

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসীরা। দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসা এক প্রবাসী জানিয়েছেন, সেখানে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে এবং মিসাইল হামলার আতঙ্কে মানুষ দমবন্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

বুধবার (৪ মার্চ) আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে যায় এবং সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ঢাকায় অবতরণ করে।

ঢাকায় পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে দুবাইফেরত প্রবাসী ওমর ফারুক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষায়, দুবাইয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ বাঙালি বসবাস করেন এবং সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে মিসাইল হামলার আশঙ্কায় তারা দমবন্ধ অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। তাঁর বাসার কাছেও একটি মিসাইল আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে দুবাই কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ওমর ফারুক বলেন, দুবাই সরকার জানিয়েছে তারা প্রায় ৯৭ শতাংশ মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং বাকি প্রায় ৩ শতাংশ মিসাইল আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, যদি সবগুলো মিসাইল আঘাত হানত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত।

তিনি আরও জানান, এখনো দুবাইয়ে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি দেশে ফিরতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন। টিকিটের জন্য অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় তারা ফিরতে পারছেন না।

এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পেরে তারা যেন নতুন জীবন পেয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদেশে সংকটে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।