বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মিরাজের ফাইফার ও শান্তর সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্ট ম্যাচে দেখা গেল রোমাঞ্চকর লড়াই, যেখানে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে দুই দলই। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান দারুণ সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত টাইগার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। অভিষিক্ত ওপেনার আজান ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। মাত্র ১৬৫ বলে ১৪টি চারসহ ১০৩ রানের দারুণ এক সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি। তবে তার বিদায়ের পরই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ও স্পিন জুটি মিলে চাপ তৈরি করে প্রতিপক্ষের ওপর। অধিনায়ক শান মাসুদ মাত্র ৯ রানেই ফিরে গেলে আরও চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর সৌদ শাকিল শূন্য রানে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ ডেলিভারিতে। ধারাবাহিক উইকেট পতনে পাকিস্তানের ইনিংস কিছুটা দুলে ওঠে।

তবে মধ্যভাগে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। দুজন মিলে ১১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। রিজওয়ান ৫৯ এবং সালমান আগা ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন, যা দলকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যায়।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে আবির্ভূত হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি একাই তুলে নেন ৫টি উইকেট, খরচ করেন ১০২ রান। তার ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৮৬ রানে।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত, মুমিনুল হক এবং মুশফিকুর রহিম। শান্ত করেন ১০১ রান, মুমিনুল হক ৯১ এবং মুশফিকুর রহিম ৭১ রান করেন। এই তিনজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে শক্তিশালী ৪১৩ রান।

পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন মোহাম্মদ আব্বাস। তবে দলের বোলিং লাইনআপ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় স্কোর আটকাতে ব্যর্থ হয়।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এগিয়ে আছে, যা ম্যাচের ফলাফলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। স্পিন ও পেসের সমন্বিত পারফরম্যান্সে স্বাগতিকরা এখন সিরিজে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বোলিং ইউনিটের শৃঙ্খলা এবং মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। অন্যদিকে পাকিস্তান বড় ইনিংস শুরু করেও সেটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই টেস্ট এখন এক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দুই দলেরই জয় সম্ভাবনা এখনও খোলা।