বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইরান-এর পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ

বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে, তা চলমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘালিবাফ বলেন, “একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার আশঙ্কা দূর হবে।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং রণাঙ্গণে আগ্রাসন বন্ধ করাও একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির শর্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ, যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়।

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল-এর সামরিক অভিযানের পর ইরান প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বর্তমানে প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছে আইআরজিসি

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। পাকিস্তান-এর রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি, ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।