মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সামরিকভাবে সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জামাল ফারেস আলরোয়ায়িকে লেখা এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উল্লেখিত দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করেছে। ফলে চলমান সংঘাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় আংশিকভাবে এসব দেশের ওপরও বর্তায় বলে দাবি করে তেহরান। সেই প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিব বা নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
পটভূমিতে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে টানা ২১ দিন সংলাপ হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা অভিযান চালায়।
সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়া একাধিক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হন।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহে মোহাজেরানি জানান, এই যুদ্ধের ফলে দেশটির প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের (২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে বিশ্ব।