বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মায়ানমারের কোস্টগার্ডের হাতে আটক ১৬ জেলে, উৎকণ্ঠায় পরিবার

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর ১৩ জনসহ ১৬ জেলেকে আটক করে নিয়ে গেছে মায়ানমারের কোস্টগার্ড। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলারই ১০ জেলে রয়েছেন। তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক আবেদন করেছেন ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জেলেদের স্বজন ও ট্রলার মালিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে ট্রলারসহ জলে ও মাঝিমাল্লাসহ ১৬ জনকে মায়ানমারের কোস্টগার্ড আটক করে নিয়ে যায়।

আটক জেলেদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের একজন, রামগতির ৯ জন এবং নোয়াখালীর ৩ জন, কক্সবাজারের একজন, চট্টগ্রামের একজন এবং ভোলার একজন রয়েছেন। ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক জেলেরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ, মো. তামজিদ, কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ, নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ এবং চট্টগ্রামের পাহারতলি এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন ও কক্সবাজারের তারেক রহমান।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার কালালিয়াকাটা গ্রামের মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে। ১৬ মাঝিমাল্লাসহ তার এফবি মা বাবার দোয়া ট্রলারটি আটক করে নিয়ে যায় মায়ানমারের কোস্টগার্ড।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ২৩ মার্চ মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে আমার ট্রলার নিয়ে জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। ট্রলারে মাঝিমাল্লাসহ ১৬ জন ছিল। এর একদিন পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আমি ২৮ মার্চ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানায় একটি জিডি করি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে মায়ানমারের কোস্টগার্ড আমার ট্রলাসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা মায়ানমারের আকিয়াব (১ম থানা) থানায় আটক রয়েছেন। আটক জেলেদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রামগতির টুমচর গ্রামের জেলে লিটনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছে। তার স্বামী জানিয়েছে ট্রলারসহ মায়ামারের কোস্টগার্ড তাদের আটক করে নিয়ে গেছে।

রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা বলেন, মেজবাহসহ আমাদের পরিবারের আমার স্বামী, ভাসুর, নন্দাই ও ভাগিনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জানতে পেরেছি, তাদেরকে ট্রলারের সবাইকে মায়ানমারের কোনো এক বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের চিন্তায় আমাদের ঘুম আসে না। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক। আমরা দ্রুত তাদেরকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানের দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।