শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মামলার ৭ দিনেও গ্রফতার হয়নি আসামীরা; প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলার সাত দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কোন আসামি। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। রোববার (১৪ মে) দুপুরে সাভারের গেন্ডা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা ।

মানববন্ধনে এসময় ভুক্তভোগীরা বলেন, সাভার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ান ওরফে মুরগি মাসুম ও তার সহযোগীরা গত ৬ মে রাতে সাভার পৌরসভার এলাকায় বিসমিল্লা ওয়াস কারখানায় গিয়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। এ সময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইউসুফ আলী চুন্নু সহ পাঁচজনকে পিটিয়ে যখম করে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ থেকে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

এই ঘটনায় আহত হন, আনন্দপুর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে ও বিসমিল্লাহ ওয়াস কারখানার স্বত্বাধিকারী ইছুফ আলী চুন্নু (৪৫), তার ছেলে আবির হোসেন (২১), ছোট ভাই নান্নু, স্ত্রী রত্না ভাতিজা বাহাদুর (২৭)। এ ঘটনায় পরদিন ( ৭ মে) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইউছুফ আলী চুন্নু বাদী হয়ে সভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়, সাভার পৌরসভার নামাগেন্ডা এলাকার হোসেন আলীর ছেলে ও সাভার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ান ওরফে মুরগি মাসুম (২৫), একই এলাকার ইমান আলির ছেলে আলমগীর ওরফে টেন্ডার আলমগীর (৩০), সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ সোহেল (৩৩), নামাগেন্ডা এলাকার হাবু মিয়ার ছেলে নাদিম দেওয়ান ওরফে গুন্ডা নাদিম (২৪), উলাইল এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে টিপু ওরফে বালু টিপু (২৮), কাতলাপুর এলাকার বাবু ওরফে রড বাবু (২৮), একই এলাকার পলাশ ওরফে খাটা পলাশ (৩০), মজিদপুর এলাকার পাভেল ওরফে চাঁদা পাভেল (৩৫), নামাগেন্ডা এলাকার হানিফের ছেলে সজীবসহ (২৪) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জন।

এই ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কাউকে ধরতে না পারার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী ইউছুফ আলী চুন্নু বলেন, হামলা ও মামলার প্রায় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি কেউ। ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে এসব সন্ত্রাসীরা মাঝে মাঝেই এলাকায় ঢুকে হুমকি-ধুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন সন্ত্রাসীরা এলাকায় ঢোকার খবর পুলিশকে জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার হচ্ছেন না এসব সন্ত্রাসীরা।

এই আসছি, এখনই আসছি,একটু পর আসছি বলে কালক্ষেপণ করে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ কোন এক অদৃশ্য ভাইয়ের ইন্দনেই সাভার পৌর-ছাত্রলীগের এই বেপরোয়া আচরণ গোটা সাভার উপজেলা জুড়ে। ছাত্রলীগের পদবীর অপব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই সন্ত্রাসীদের দাপটে অসহায়ত্বের কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবারটি। যেকোন সময় হামলা হতে পারে এবং ঘটে যেতে পারে আরো বড় কোন দুর্ঘটনা এমন আশঙ্কায় ভয়ে তটস্থ থাকার কথা ও জানান ভুক্তভোগীরা। এর আগেও মাসুম দেওয়ান মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার হলেও থামেনি তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

একটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে থেকেও তার এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টির কথা জানান ক্ষোধ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও মাসুম দেওয়ানের কর্মকাণ্ডে বিব্রত ক্ষোধ উপজেলা ছাত্রলীগও। সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরুজ কবির জানান এমন নেক্কারজনক ঘটনায় বিব্রত সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ। আসামি ধরতে পুলিশের গাফলিতি রয়েছে ভুক্তভোগীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এস আই সুদিপ কুমার গোপ কালবেলাকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামি ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি,তার পরও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ দুঃখজনক। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে।