শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মান্দায় এক সাবেক সেনা সদস্যসহ অন্যান্য কবলাদারের বিবাদমান জমি থেকে বিতারিত করার পায়তারা

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নওগাঁর মান্দায় আলহাজ্ব আবুল হোসেন নামে এক সাবেক সেনা সদস্যসহ অন্যান্য কবলাদারের বিবাদমান জমি থেকে বিতারিত করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এমতাবস্থায় ওই বিবাদমান জমি সংক্রান্ত বিরোধে থানা পুলিশের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরেও কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা। ঘটনাটি উপজেলার ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের নিজ কুলিহার গ্রামের। এ ঘটনায় অত্র এলাকাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভূক্তভোগী বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত তয়েজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন জানান, নিজ কুলিহার মৌজায় ৪৩৬ ও ৪৩৭ নং হাল খতিয়ানের মূল মালিক নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মৃত অনুপ সরদারের ছেলে অফির উদ্দিন সরদারের নিজ নামীয় ষোল আনা অংশের মধ্য হতে তার ওয়ারিশদের কাছ থেকে গত ২০১২ সালে কবলামূলে প্রাপ্ত ৭১.৮১ শতক সম্পত্তি নামজারি করে নেন। যাহার খারিজ কেস নং ১২২৮/ ওঢ-ও/২১-২২ এবং প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ৯৩৫।

অপরদিকে একই খতিয়ানের মূল মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে নিজ কুলিহার গ্রামের মৃত ইসমাইল ওরফে ইছি’র ছেলে আনিছুর রহমান ৩৩ শতক এবং নওগাঁ সদর উপজেলার চকদেবপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে মাসুদ রানা ৮৩.১৮ শতক জমি কবলা করার পর হতে অদ্যবধি খাজনা-খারিজ পরিশোধ অব্যাহত রেখেছেন। অথচ, নিজ কুলিহার গ্রামের মৃত তাজন উদ্দিনের ছেলে শফির উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মন্টু গং সহ অন্যান্যরা তাদের পূর্বপুরুষের নামে একটি কোর্ফা রায়তির সি.এস এবং এস.এ খতিয়ানমূলে ২০০৭ সালে আদালতে ২০৯/২০০৭ নম্বর একটি অঃ প্রঃ মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালে মামলাটি ডিসমিস করে দেয় নিম্ন আদালত।

এরই এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন উচ্চ আদালতে একটি আপিল দায়ের করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের শুনানী অন্তে পূর্বে দেয়া রায়টি বলবৎ রাখে উচ্চ আদালত। এরপর সে রায় উপেক্ষা করে পূনরায় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে একটি স্টে অর্ডার করে নিয়ে আসেন প্রতিপক্ষের লোকজন। যেটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। তারা নিজেরা বাটোয়ারা মামলা দায়ের করার পর সেই মামলা অদ্যবধি চলমান থাকাবস্থায় আদালতের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে বিবাদমান জমিগুলো তাদের দখলে রাখার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় থানা পুলিশের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরেও কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীরা। এতে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের দেওয়ান শফির উদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মন্টু সহ অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, নিজ কুলিহার মৌজায় ৪৩৬ ও ৪৩৭ নং হাল খতিয়ানের ১ একর ৮৮ শতাংশ জমি নিয়ে আবুল হোসেন, আনিছুর রহমান এবং মাসুদ রানা’র সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিলো। তাদের দাবি যে, ২০ এবং ৬২ সালের কোর্ফা খতিয়ানে তাদের অংশ রয়েছে। অথচ, ৭২ সালের রেকর্ডে আর এস খতিয়ানে ভূলক্রমে নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মৃত অনুপ সরদারের ছেলে অফির উদ্দিন সরদারের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি জানতে পেরে আদালতের সরনাপন্ন হয়ে একটি বাটোয়ারা (রেকর্ড সংশোধনী) মামলা দায়ের করেন।

তাদের দাবি যে, ২০০৭ সালে বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে একটি অঃ প্রঃ মামলা দায়ের করেন। ২০২১ সালে মামলাটি ডিসমিস করে দেয় নিম্ন আদালত । এরই এক পর্যায়ে উচ্চ আদালতে একটি আপিল দায়ের করেন তারা। এরপরেও পূর্বে দেয়া রায়টি বলবৎ রাখে উচ্চ আদালত। এরপর পূনরায় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে একটি স্টে অর্ডার করে নিয়ে আসেন। এছাড়াও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং বিবাদমান জমিটি বর্তমানে তাদের দখলেই রয়েছে। মান্দা থানার ওসির অনুমতি সাপেক্ষে বিবাদমান জমিতে হালচাষ করছেন বলেও জানান তারা।

এ ব্যাপারে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজামে¥ল হক কাজী’র বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘জমি সংক্রান্ত বিরোধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে । তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, বিবাদমান জমির জন্য আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ’