নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকমানিক বিলে পানি নিষ্কাশনের পথে অবৈধ বানা (বাঁধ) দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের ৫টি পয়েন্টে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে বিলের প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিকার ও বানা অপসারণের দাবিতে রোববার বিকেলে বিলের পাড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি মামুনুর রশিদ, মতিউর রহমান, আনেছ উদ্দিন, রুস্তম আলী, আইয়ুব আলী, ইউসুফ আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন মিলে চকমানিক বিলে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছেন। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁশ ও জালের বানা দেওয়ায় পানি সরতে পারছে না। ফলে বিলে আবাদ করা প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষকরা নিরুপায় হয়ে বুক সমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। এতে উৎপাদন লোকসানের পাশাপাশি বাড়তি শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।
রোববার বিকেলে চকমানিক বিলের পাড়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন। এতে বক্তব্য রাখেন- কৃষক শাহাদাত হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, ইন্তাজ আলী ও আব্দুর রশিদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের মাছ চাষের নেশায় আজ হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হচ্ছে। আমাদের সারা বছরের খোরাকি এখন পানির নিচে।’ তারা অবিলম্বে মাছ চাষ বন্ধ এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই তারা মাছ চাষ করছেন। ধান তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, যারা মানববন্ধনে গেছেন তাদের অনেকের জমিই নেই। আগামীতে কন্ট্রাক্ট না দিলে তারা আর মাছ চাষ করবেন না।
এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ বানাগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
মান্দায় অবৈধ বানা দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ: অপসারণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকদের মানববন্ধন
প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১১ মে, ২০২৬