মানুষ ক্ষমতা দেখতে চায় না, দায়িত্ব পালন দেখতে চায়
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বলেছেন, মানুষ আপনাদের প্রশংসা করার জন্য মুখিয়ে আছেন। শুধু আপনাদের কাছে আন্তরিক ব্যবহার ও সহযোগিতা চায়, হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করুন সেটাই চাই। মানুষ আপনাদের ক্ষমতা দেখতে চায় না, দায়িত্ব পালন দেখতে চায়।
শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত হচ্ছে, দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করছে। কিন্তু সেই সংবাদ জনমানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার যথোচিত বিচারও যেমন হতে হবে। বিচার যে হচ্ছে সেই সংবাদটিও জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে।
কনফারেন্সে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ মিয়া আলম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে যাওয়ার পথে একজন ব্যক্তিকে আদালত প্রঙ্গণের অদূরেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক, আদালতে আসা-যাওয়ার পথে বিচারপ্রার্থী, বিচারক ও আইনজীবীরা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, তবে ন্যায়বিচার প্রশাসন পরিচালনা ব্যাহত হবে।
তিনি তার বক্তৃতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির সাম্প্রতিক সংশোধনীর মাধ্যমে ১৭৩এ ধারাটি যুক্ত করার একটি হলিস্টিক পারপাস রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি এই ধারাটির কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। সেই বিষয়ে প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভিকটিমদের জখমের সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং ডাক্তার সাক্ষীদের আদালতে উপস্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ভূমিকা পালন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী নিয়ে সম্মেলনে বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।