দেশে একটি মানবিক, আধুনিক ও সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এবং জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল “স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ”।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এতে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা চিকিৎসা গ্রহণকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতি চালু করা হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার এনে চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখা, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে তা বিস্তার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতাদের জন্য ন্যায়সংগত আইন প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা One Health নামে পরিচিত, বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে Artificial Intelligence, Machine Learning, Virtual Reality এবং Augmented Reality-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
বাণীতে তিনি বলেন, সরকার “প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম” নীতিতে বিশ্বাসী এবং ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবাকে তিনি মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব।