বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মাদুরোর আগে সাদ্দামসহ আরও যেসব প্রেসিডেন্টকে আটক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

মাদুরোর আগে সাদ্দামসহ আরও যেসব প্রেসিডেন্টকে আটক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার এ আটকের খবরে বিষ্মিত হয়েছে বিশ্ব।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এবারই প্রথম কোনো দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টকে আটক করেনি। এর আগেও তারা এ কাজ করেছে।

১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিগাকে আটক করে তারা।

পানামায় থাকা মার্কিনিদের নিরাপত্তার অজুহাতে দেশটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পানামায় হামলার আগে ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ামির একটি আদালতে ম্যানুয়েল নোরিগাকে মাদক চোরাচালানে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যেমনটি করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে।

ম্যানুয়েল নোরিগা পানামার ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৫ সালে। সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। তিনি ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন এবং পানামায় যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী যে মনোভাব ছিল সেটিকে সমর্থন জানান। এরপর তাকে আটক করতে পানামায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

পানামার প্রেসিডেন্টকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। এরপর আরেকটি মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়। কিন্তু এক বছর পর ফ্রান্স তাকে পানামায় ফেরত পাঠায়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। এর ৯ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়। ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে এমন অজুহাতে দেশটিতে সেনা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

পানামার প্রেসিডেন্টের মতো সাদ্দাম হোসেনও এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এক সময় দাবি করতে থাকে সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে। এছাড়া আল-কায়েদাকে তিনি সহায়তা করেন এমন অভিযোগও তোলে তারা। এক্ষেত্রেও ছিল না কোনো প্রমাণ।

সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকের তিকরিত শহরের একটি গুহা থেকে আটক করে মার্কিন সেনারা।

তাকে ইরাকের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।