বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাগুরার কাঁঠালে জমজমাট সীমাখালী হাট, ৩৫ জেলায় যাচ্ছে হাজার হাজার কাঁঠাল

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

স্বাদ, গুণগত মান ও সুগন্ধের জন্য দেশজুড়ে পরিচিতি রয়েছে মাগুরার কাঁঠালের। আর এই সুস্বাদু ফলকে কেন্দ্র করে শালিখা উপজেলার সীমাখালী বাজারে গড়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁঠালের হাট। মৌসুমজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে হাজার হাজার কাঁঠালের বেচাকেনা। এই হাট থেকে মাগুরার কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি জেলায়।

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকেই ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল কিনে নেওয়ায় কৃষকরাও পাচ্ছেন সন্তোষজনক দাম। ফলে একসময় বাড়ির আঙিনার ফল হিসেবে পরিচিত কাঁঠাল এখন মাগুরার কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক বাণিজ্যিক ফসলে পরিণত হয়েছে।

সীমাখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাগুরার চার উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা ট্রাক ও পিকআপে করে কাঁঠাল নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা কাঁঠাল কিনে নিজ নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা জানান, সীমাখালী বাজার থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই তারা এই হাটে কাঁঠাল কিনতে আসেন।

কৃষকদের মতে, মাগুরার কাঁঠালের স্বাদ ও মান তুলনামূলকভাবে ভালো। এবার ফলন ও বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কাঁঠাল চাষ করে ভালো লাভ করছেন তারা। পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের তুলনায় কাঁঠাল চাষে খরচও কম হওয়ায় এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন। সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা গেলে এই আয় আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কাঁঠাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো গেলে এটি দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ফলের গুণগত মান ধরে রাখতেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।