বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মাইকে নিষেধাজ্ঞা, না মানলে দাফনও নয়—কুমারখালীতে তীব্র বিতর্ক

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়ন-এর বড় মাজগ্রাম এলাকায় উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বা মাইক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটি। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেউ নির্দেশ অমান্য করলে তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে, এমনকি মৃত্যুর পর কবরস্থানে দাফনও করতে দেওয়া হবে না—এমন ঘোষণা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মাইকিং করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গ্রামের বাসিন্দা জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির নাতি আলিফের খৎনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। এতে আশপাশের মুসল্লিদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কেউ সাউন্ড বক্স বা মাইক ব্যবহার করলে তাকে ঈদগাহ ও মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হবে, মসজিদের জন্য তার কাছ থেকে কোনো অনুদান গ্রহণ করা হবে না এবং মৃত্যুর পর কবরস্থানে দাফনের অনুমতিও দেওয়া হবে না।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী বলেন, “গ্রামে অসুস্থ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি ছিল।” তবে তিনি জানান, প্যান্ডেল করে সীমিত আকারে ঘরোয়া অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রুপা খাতুন দাবি করেন, এটি একটি ব্যক্তিগত বিরোধের ফল। “আমরা শুধু একদিন নাতির খুশির জন্য বক্স বাজিয়েছিলাম, আজানের সময় তা বন্ধ রাখা হয়েছিল,”—বলেন তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা প্রশাসনের নজরে আসে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন স্পষ্টভাবে জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে কারও সামাজিক অধিকার খর্ব করার সুযোগ নেই।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই জরুরি, তবে তা আইন ও মানবাধিকারের সীমার মধ্যে থেকেই করতে হবে। অন্যথায় এমন সিদ্ধান্ত সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।