বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মহাসড়কে স্থবিরতা—ঢাকা-চট্টগ্রামে ৮ কিমি দীর্ঘ যানজট

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এ হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, যা ভোগান্তিতে ফেলেছে হাজারো যাত্রীকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যানজট মহাসড়কের অন্তত ৮ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে দাউদকান্দি থেকে মেঘনা সেতু এবং ভবেরচর এলাকার দুই পাশে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোরের দিকে দাউদকান্দি সেতুর টোলপ্লাজায় হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সড়কে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হতে থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর টোল আদায় পুনরায় শুরু হলেও তখন পর্যন্ত মহাসড়কে যানজটের চাপ তীব্র হয়ে ওঠে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে যখন মুন্সিগঞ্জের ভবেরচর এলাকায় একটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের মাঝখানে আটকে যায়। এতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক চালক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর আশায় উল্টো পথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে পুরো সড়ক ব্যবস্থাই বিশৃঙ্খলায় পড়ে যায় এবং যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

দীর্ঘ সময় আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকতে বাধ্য হন, যার ফলে কর্মস্থল, ব্যবসা ও জরুরি কাজে যাওয়া মানুষদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত মাঠে নামে হাইওয়ে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে বিকল গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে দুপুর পর্যন্তও থেমে থেমে যান চলাচল করতে দেখা গেছে, যা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার জানান, “ভোররাতে টোলপ্লাজার যান্ত্রিক সমস্যা এবং ভবেরচরে একটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোতে টোলপ্লাজার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি, যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের ভোগান্তি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।