বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো এখন বিকল্প উৎস হিসেবে মার্কিন তেল ও গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে। এই সংকটের প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও এলএনজি পরিবহন খরচে ইতিমধ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

বিশ্লেষণ সংস্থা আর্গাস মিডিয়া-র তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর এশিয়ায় সরবরাহকৃত মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম ৪৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ভাড়া চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফাবিয়ান এনজি, আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের প্রধান জানান, যুদ্ধের পর জাপানি শোধনাগারগুলো আগামী জুনের জন্য প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এখন বড় চুক্তিতে যাচ্ছে না এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আসে, যেখানে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছ থেকে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন যে, প্রণালিতে মাইন স্থাপন করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

সংঘাতের কারণে জ্বালানির প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো তাদের মজুত করা তেলের ওপর নির্ভর করছে, যা কেবল কয়েক সপ্তাহ পর্যাপ্ত হতে পারে। তবে এনার্জি অ্যাসপেক্টস-এর বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি পূরণ করার মতো উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

লিভিয়া গ্যালারাতি, এনার্জি অ্যাসপেক্টস-এর বিশ্ব গ্যাস বিষয়ক প্রধান বলেন, “এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার অধিকাংশ দেশ এখন মজুত করা জ্বালানি ব্যবহার করছে। অনেকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বা শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমিয়ে চাহিদা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।”