মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার ভোরে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি-এ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ব্যবহার করে আসছে, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় কৌশলগত বিমান মোতায়েনের জন্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ঘাঁটির একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনটি থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। পরে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং কোনো উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘাঁটিটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর কিছু কার্যক্রম চলমান ছিল বলে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানায়, ধোঁয়ার কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘাঁটিটি সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা যায়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলোর মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
ঘাঁটিটির অবস্থান গ্লস্টারশায়ার এলাকায় এবং এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অতীতে এটিকে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনার পর ঘাঁটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও দেখা গেছে, যেখানে মানুষ সামরিক ব্যবহারের জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।