বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে প্রাণহানি—দেশে ফিরছে একের পর এক মরদেহ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ভয়াবহতায় প্রাণ হারাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaid Islam জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ সংঘাতে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, একজনকে মধ্যপ্রাচ্যেই দাফন করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিহত প্রবাসী Shah Alam-এর মরদেহ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে দেশে পৌঁছেছে। সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে Emirates এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আসে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দাফন কার্যক্রমের জন্য নিহত শাহ আলমের পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের Fujairah অঞ্চলের দিব্বা এলাকায় স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের আঘাতে নিহত হন শাহ আলম। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের পুনর্বাসনে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যারা এখনও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটকে আছেন, তাদেরও সরকারি খরচে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

এই মানবিক সংকট শুধু একটি দেশের নয়, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রতিফলন—যার প্রভাব পড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকায়।