বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে জ্বালানি তেল দাম স্থিতিশীল রাখার কৌশল ও বিশ্লেষণ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে তেলের দাম বেড়ে যায়, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেই পথে হাঁটেনি, বরং স্থিতিশীলতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছেন এবং জ্বালানি তেল মুনাফার এক অংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “বর্তমানে সরকার আসলে তার মুনাফার অর্থ থেকেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টাকা দিচ্ছে। বাড়তি কোনো সুদযুক্ত ঋণ বা গ্রান্ট কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। ১৫ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাজার ভিত্তিক মূল্য কাঠামো অনুসরণ করলেই সাশ্রয় সম্ভব, যা সকল ভোক্তার জন্য কাজে আসবে। দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সাবসিডি ধীরে ধীরে তুলে নেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের কৌশল যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধাপে ধাপে স্থানান্তর করতে চায়, সেটি বড়ভাবে বাধাগ্রস্ত হবে যদি বর্তমান বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করে।”

অন্যদিকে, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, “এই সাময়িক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারকে দাম কমানোর কার্যকর কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এ সময় গণশুনানী বা বিআরসিকে নির্দেশনা দিয়ে দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। বাজারভিত্তিক নিয়ম ঠিকমতো কার্যকর করলে ঘাটতি কমানো, ভর্তুকি সঠিকভাবে বিতরণ এবং লুন্ঠনমূলক ব্যয় প্রতিরোধ সম্ভব।”

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ ব্যবস্থায় ত্রুটি বিদ্যমান। এটি সংশোধন করে বাজারভিত্তিক করা হলে, দাম স্থিতিশীল রাখা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে।

তাদের মতে, সরকারকে সতর্ক নজর রাখতে হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রক্ষার ব্যবস্থা ও তেল সরবরাহে কোনও বিঘ্ন না আসে।

বাংলাদেশের জন্য এই সময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দাম স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ভর্তুকি সঠিকভাবে বিতরণ এবং বাজারভিত্তিক মূল্য ব্যবস্থা স্থাপন দেশকে জ্বালানি সংকট ও আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে।