বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি, সাংবিধানিক অধিকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আশঙ্কায় পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) এই রিট পিটিশন দায়ের করেন। এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিন কে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বাঙালি ঐতিহ্য নয়; এটি ১৯৮৯ সালে “আনন্দ শোভাযাত্রা” নামে শুরু হওয়া একটি নবসৃষ্ট কার্যক্রম, যা পরে নাম পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখের মূল সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় পাখি, মাছ ও পশুর বিশালাকৃতির প্রতিকৃতি বহন করা হয়, যা ইসলামের আকিদার পরিপন্থী কারণ মুসলিমরা কেবল আল্লাহর নিকটেই মঙ্গল বা কল্যাণ প্রার্থনা করতে পারে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত কিছু প্রতিকৃতি হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত, যা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করে এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের ‘আইনের সুরক্ষা’ ও ‘জীবনের অধিকার’ লঙ্ঘন করে।

আইনজীবী মামুন বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই নবসৃষ্ট কার্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ইমান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য এটি মারাত্মক হুমকি।

রিটে পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার, অনুমোদন বা যেকোনোভাবে পরিচালনা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।