ভোলায় গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা (৩৭) জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠু-এর আদালত থেকে তিনি জামিন পান।
সাওদার পক্ষে আদালতে আইনগত লড়াই করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট ফরিদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, রহমাতুল্লাহ সেলিমসহ একদল আইনজীবী।
জামিনে মুক্ত হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাওদা বলেন,
“সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে। তারা যদি জনগণের না হয়, তাহলে আমরা সে সরকার দিয়ে কী করবো? অসুস্থ সন্তানকে রেখে আমাকে দুই রাত জেলখানায় থাকতে হয়েছে, যা অত্যন্ত কষ্টের ছিল।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি দেশ ও জনগণকে ভালোবেসেই সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেছি। যদি কথা বলার জন্যই মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর কথা বলতে সাহস পাবে না। আমরা চাই আমাদের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হোক।”
এর আগে তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়। জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
ভোলা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. নাছির উদ্দিন জানান, তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন,
“সাওদাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমরা আইনগতভাবে লড়াই করেছি এবং আদালত তাকে জামিন দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।”
এর আগে গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলা সদর পৌরসভার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
পুলিশ জানায়, তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কিছু পোস্টে সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।