বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভোট গণনায় দেরি হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ২০২৬-এ ভোট গণনায় দেরি হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত “ভোট কারচুপি রোধে নাগরিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য কারচুপি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক আলোচনা হয়।

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের যুগ্ম সহকারী জেসমিন তুলি বলেন, নির্বাচনে দুই ধরনের কারচুপি হয়— দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার ডিজাইন ও স্থানান্তর ব্যবস্থার অনিয়ম অনেক ক্ষেত্রে কারচুপি করতে সুবিধাজনক হতে পারে। তিনি ভোটার তালিকার বায়োমেট্রিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কিছুটা স্বচ্ছতা আসলেও, নির্বাচনী বছরে ভোটার স্থানান্তরের সুযোগ এখনও আইনিভাবে স্পষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদুর রহমান বলেন, ব্যালটের নির্দিষ্ট সিরিয়াল অনুযায়ী সিল ব্যবহার করা হলেও, যদি সিল বা ব্যালটের সফট কপি ফাঁস হয়, তাহলে ভোটের স্বচ্ছতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, এটি স্থানীয় ঘটনা না বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর এবং সহকারী অধ্যাপক ড. রুমানা পারভীন নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাতে ভোটের স্থানান্তর, একাধিক ভোট দেওয়ার সুযোগ, এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে ভোটে বিশৃঙ্খলা ও কারচুপি ঘটেছে। তারা বলেন, এই ধরনের উদ্বেগ নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে যে ভোট সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে।

সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ বলেন, জনগণের মধ্যে ভোট গণনা নিয়ে দীর্ঘ দেরি ও সন্দেহ অতিরিক্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশঙ্কা এবং বড় দলের নেতাদের মন্তব্য জনগণকে উদ্বিগ্ন করে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রেইন-এর পরিচালক সফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, লেখক ও বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ, সাইয়েদ আবদুল্লাহ, মাবরুরুল হক এবং লেখক তুহীন খান

বিশেষজ্ঞরা একমত, ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনগণের আস্থা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা নির্বাচন কমিশনকে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।