বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভোটার তথ্য সুরক্ষা ও পদ্মা ব্যারেজে জোর, একনেকে উঠছে ১৬ উন্নয়ন প্রকল্প

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে আজকের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। সভায় ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষার জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রকল্প পর্যালোচনা শেষে অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ভোটার ডেটাবেজ সুরক্ষা প্রকল্প। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রায় ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় সারাদেশে সার্ভার স্টেশন ও নির্বাচন কার্যালয়ের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

‘উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচনী ডেটাবেজের জন্য সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো অর্থায়ন করবে সরকার। প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক কার্যালয়, তিনটি জেলা কার্যালয় এবং ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্যভাণ্ডার বর্তমানে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই ডেটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অবকাঠামোর মাধ্যমে ইভিএম, ব্যালট বাক্স, ভোটার তালিকা ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়বে।

এদিনের সভার সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ উদ্যোগ। প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যারেজের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততা কমানো এবং দীর্ঘদিনের পানি সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে সৃষ্ট পানিপ্রবাহ সংকট কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যারেজ থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।

একনেক সভায় আরও যেসব প্রকল্প উঠছে তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে ৩০ শয্যায় উন্নীতকরণ, হাই-টেক সিটি-২ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিমসটেক সচিবালয় ভবন নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন নির্মাণ এবং সাভার ক্যান্টনমেন্টে আবাসন কমপ্লেক্স স্থাপন।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, ব্যয় সাশ্রয় ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নকশা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বাদ দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আজকের একনেক সভার সিদ্ধান্তগুলো দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।