বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভোটারদের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে: মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তের নিন্দা জামায়াতের

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল, যা একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিপন্থি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের সিদ্ধান্তে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তিনি এই সিদ্ধান্তকে একতরফা, অযৌক্তিক ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণানুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো ভোটার মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না। অথচ বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন নাগরিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভোটাধিকার প্রয়োগের মতো একটি সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি করবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল। বিশেষ করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের সচেতনতা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার ফলে সেই স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করা। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সবশেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের মতামত ও অধিকারকে উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচনই টেকসই কিংবা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।