রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ছিল বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে দুপুরের পর বহু কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোটের হার ৪৭.৯১ শতাংশ
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ।
বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের তথ্য
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। জালভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে ৫৯টি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে ৩টি স্থানে।
এ ছাড়া—
-
পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়ার ঘটনা: ১৪টি
-
প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ: ১৩৫টি
-
প্রার্থী মারধর: ৬টি
-
ভোটে বাধা প্রদান: ১৮টি
-
অগ্নিসংযোগ: ৪টি
-
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলা: ৩৩টি
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন—এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন প্রতিনিধি ছাড়াও কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ১৫০ জন সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।
এখন সবার দৃষ্টি ফলাফল ঘোষণার দিকে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণনা শেষে পর্যায়ক্রমে ফল প্রকাশ করা হবে। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই ফলাফলই হয়ে উঠবে পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা।