শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘ভূমিহীন’ হওয়ায় পুলিশে চাকরি হচ্ছে না সানজিদার

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

বাবা মীর হোসেন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। দ্বিতীয় মেয়ে সানজিদা আক্তার (২৯) দশম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাকরির আশায় পুলিশ কনস্টেবল পদের জন্য আবেদন করেন সানজিদা। নোয়াখালী জেলার পুলিশ কনস্টেবল পদের সবকয়টি ধাপে উত্তীর্ণও হয়েছেন তিনি। কিন্তু এতোটা কাছে এসেও স্বপ্ন পূরণে বাধা পড়ল যখন পুলিশ ভেরিফিকেশনে জানা গেল সানজিদা আক্তার ভূমিহীন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন সানজিদার বাবা মীর হোসেন। তবে বর্তমানে পার্শ্ববর্তী রামপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন তিনি। অভাবের সংসারে টিউশনি আর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালান সানজিদা আক্তার। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল (টিআরসি) পদে সানজিদাসহ ৭৮ তরুণ-তরুণীর নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নির্বাচিত প্রার্থীদের ফুল দিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মিষ্টিমুখ করান। কিন্তু সানজিদার ঠোঁটে সেই হাসি বেশিদিন টিকল না। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে জানা যায় সানজিদা আক্তার ভূমিহীন। ফলে তার চাকরি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। তবে সানজিদার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

সানজিদা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসেছি। সরকারি মুজিব কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে অনার্সে পড়ছি। আমার চাকরিটা হলে বাবা-মায়ের কষ্ট কমবে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। ভূমিহীন হওয়া তো আমার অপরাধ না। যোগ্যতা অনুযায়ী সব ধাপের পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হয়েছি।