বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভুয়া প্রতিনিধির সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল এমওইউ, চসিকের চুক্তি বাতিল

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রস্তাবিত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের পর সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। মিসরের দুই শীর্ষ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান—Orascom Construction এবং The Arab Contractors—এর প্রতিনিধি পরিচয়ে চুক্তি স্বাক্ষরকারী কাউসার আলম চৌধুরীর কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৫ জুন) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মনোরেল প্রকল্প-সংক্রান্ত এমওইউ এবং সংশ্লিষ্ট সব চুক্তিপত্র বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চসিক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুন ‘আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর প্রতিনিধি দাবি করে কাউসার আলম চৌধুরী চসিকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। এমনকি এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর কাছেও।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় গত ২২ জুন, যখন ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডাকে জানায় যে, কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে ওরাসকম কনস্ট্রাকশন কিংবা দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক, চুক্তিভিত্তিক বা অনুমোদিত সম্পর্ক নেই। তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষে কোনো আলোচনা, চুক্তি স্বাক্ষর বা প্রকল্প প্রচারেরও অনুমতি পাননি।

দূতাবাসের ওই বার্তা পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি চসিককে অবহিত করে। এরপর দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন।

এদিকে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আইনগত প্রতিনিধিত্বের নথি ছিল না।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কথিত এই কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা শুধু চট্টগ্রামের মনোরেল প্রকল্প নয়, খুলনা অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মোংলা বন্দর-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

প্রকল্পটি ঘিরে আলোচনায় এসেছে গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরাম-এর নামও। সংগঠনটির সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং সদস্য সচিব আলী নাজির শাহীন বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়েছিল এবং এতে সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক ব্যয় হয়নি। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি প্রমাণিত হওয়ায় জনস্বার্থে পুরো চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।