বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভিসা প্রতারকরা ইউরোপে চাকরি করার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কেটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

 

ভিসা প্রতারকরা ইউরোপে চাকরি করার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কেটি টাকা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা প্রবাসীদের টাকায় ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ফেসবুকে ভিডিও বুস্ট করে ইমো নম্বর দিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের গাড়ি-বাড়ি ও চলন-বলনে স্থানীয়দের চোখ কপালে উঠেছে। প্রশাসনের নজর পড়ায় অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্র ডলার দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ইমো নম্বর কিনে মোবাইলে সেটআপ দেয়। ফেসবুক ভিডিওতে কোটি টাকার থাই গেমের উইন নম্বর ও ইউরোপের ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। প্রবাসীরা সেই ইমোতে যুক্ত হলে প্রতারকরা কৌশলে তাদের টাকা হাতিয়ে নেয়।

প্রথমে উপজেলার নিতাই ইউনিয়নে এ প্রতারক চক্র গড়ে উঠে। স্বল্প শিক্ষিত ও নিম্ন আয়ের যুবকেরা এ চক্রের সদস্য। তাদের রয়েছে দামি মোটরবাইক ও নির্মাণ করেছে বহুতল বাড়ি। গত দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এরা ডানা মেলেছে। মদদদাতা থাকায় তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারক চক্রের সদস্যরা বলেন, প্রবাসীরা ভিডিও দেখে থাই গেমের গোপন নম্বর ও আকামার জন্য ইমোতে যুক্ত হয়। থাই সরকারের লটারি কার্যালয়ে ও ভিসার ক্ষেত্রে ইউরোপে চাকরি করার কথা জানাই। টাকার বিনিময়ে থাই গেমের রেম্বল, ডাউন নম্বর অথবা ভিসার ক্ষেত্রে আবেদন ফরম নেয়।

পরে তাদের ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও কাগজপত্র নিয়ে গেম উইন অথবা ভিসা পাওয়ার কথা জানাই। বড় স্যার ও ভ্যাটের খরচ, ডলারে কনভার্ট, ভিসার ক্ষেত্রে বিমান ভাড়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে একাধিকবার টাকা নেওয়া হয়। গেম ড্র হওয়া ও ভিসার তারিখের আগে তাদের ইমোতে ব্লক করে দিই।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এসএম শরীফ জানান, থাই গেম ও ভিসা প্রতারণার ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ চক্রের সদস্যরা অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।