বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভাসানচরকে হাতিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে সন্দ্বীপ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা।

ভাসানচর বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একটি নতুন চর। ২০১০ সালে চরটি দৃশ্যমান হলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার পর এটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। ওই বছর জরিপের মাধ্যমে চরটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে সময় অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন সরকার ভাসানচরকে হাতিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সন্দ্বীপের মানুষ তখন বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে পারেননি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাসানচরকে সন্দ্বীপের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন সন্দ্বীপের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের ধারাবাহিক দাবি ও তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানা জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে সন্দ্বীপ ও হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কমিটির একাধিক সভা শেষে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা ভাসানচরকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত দেখিয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারও একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেন।

সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ এলাকার ছয়টি মৌজা—ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচর—এর সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) ও আরএস ম্যাপ পেন্টাগ্রাফ এবং আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, এসব মৌজা ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সীমানার মধ্যেই পড়ে। যদিও দিয়ারা জরিপে এগুলো নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

সব দিক বিবেচনায় বিরোধপূর্ণ চর ভাসানচরকে সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করাই যৌক্তিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ভাসানচরকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।