বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ: সহযোগিতায় জোর বাংলাদেশের

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পরিবর্তনশীল সরবরাহ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

স্থানীয় সময় শুক্রবার মরিশাস-এ অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলন-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এককভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়; বরং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যেতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে “collective action” বা সম্মিলিত উদ্যোগকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যমান শাসন কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মত দেন।

তিনি ভারত মহাসাগরকে ঘিরে একটি ‘shared cooperative vision’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে এই বিশাল জলরাশি বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।

বক্তব্যে সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরায় সক্রিয় করা জরুরি। পাশাপাশি বিমসটেক-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া, তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, এই অঞ্চল এখনো তুলনামূলকভাবে কম গবেষিত এবং এখানকার বিপুল জনগোষ্ঠী প্রথাগত মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

শেষে তিনি বলেন, কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা বাস্তবে অর্থনীতি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।