মঙ্গলবার , ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভারতে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ, রেড বুল-স্টিংসহ বড় কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ভারতে উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় প্রস্তুতকারকদের ‘এনার্জি ড্রিংক’ নাম ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এর মাধ্যমে দ্রুত বাড়তে থাকা এই বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) এ ধরনের পানীয় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পেপসি, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, রিলায়েন্স এবং হেল এনার্জির মতো কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্যে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা এ ধরনের সতর্কতামূলক শব্দ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এফএসএসএআইয়ের দাবি, ভারতে এ ধরনের পানীয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো গুণগত মানদণ্ড নেই। পাশাপাশি এসব পানীয় শরীর ও মন চাঙ্গা করে বা দুর্বলতা দূর করে—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

ভারতের এনার্জি ড্রিংকের বাজার বর্তমানে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটির এই বাজার ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এফএসএসএআই প্রধান রাজিত পুনহানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, চাইলে কোম্পানিগুলো আদালতে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

এদিকে শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, হঠাৎ করে পণ্যের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করলে ব্র্যান্ডের পরিচিতি ও বিক্রি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তবে তারা সরকারি নীতিমালা মেনে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ক্যাফেইন, অতিরিক্ত চিনি ও টরিনযুক্ত এ ধরনের পানীয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যুক্তরাজ্যে আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এ ধরনের পানীয় বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতে ২০১৭ সালে পেপসির ‘স্টিং’ বাজারে আসার পর এনার্জি ড্রিংকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। কম দাম ও ব্যাপক বিজ্ঞাপনের কারণে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব পানীয়ের ব্যবহার বেড়েছে।

সরকারি অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারতের রাজস্থান থেকে স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুলের হাজার হাজার বোতল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিঙ্কিট ও সুইগির মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে এসব পণ্যকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ নামে প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।