বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভারতের সংসদে তুলকালাম, মোদিকে ঘিরে ধরে হট্টগোল

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের হট্টগোল আর বিক্ষোভের কারণে ভাষণ দিতে পারেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার বিকেলের দিকে লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর নরেন্দ্র মোদির ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার থাকলেও বিরোধীদের হট্টগোলে তা আর হয়নি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় লোকসভায় যে হট্টগোল তৈরি হয়, তার সূচনা হয়েছিল বুধবার সকাল থেকেই। বিরোধীরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থানে ছিলেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সাবেক সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

দিনভর একাধিকবার লোকসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কিছুক্ষণ আগে বিরোধী দলের কয়েকজন নারী সাংসদ ক্ষমতাসীন দলের নির্ধারিত সব আসনের সামনে দাঁড়িয়ে চেয়ার আটকে দেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসনও ছিল। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বর্ষা গায়কোয়াড় ও জ্যোতিমণিও ছিলেন।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের হট্টগোলের মাঝে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রায় অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় কয়েকজন মন্ত্রী তাদের আসন ছেড়ে যেতে অনুরোধ জানানোর পর নারী সংসদ সদস্যরা অবরোধ তুলে নেন।

পরে বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি বলেন, ওই নারী সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই হট্টগোল করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভীতিকর। এতে কংগ্রেসের হতাশার মাত্রাই প্রকাশ পেয়েছে। নারী সাংসদরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর আসনের চারপাশে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিরেন রিজিজুর দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। হট্টগোলের মাঝেই আবারও অধিবেশন মুলতবি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত লোকসভায় ‘ধন্যবাদ প্রস্তাব’ গৃহীত হয়নি। আগামীকাল পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকায় আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।