বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে : প্রেস সচিব

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভারতীয় গণমাধ্যম ও আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশকে ঘিরে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এই মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন : চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি (ডিআইইউসাস)।

প্রেস সচিব বলেন, ভারতের অনেক প্রভাবশালী গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, “আনন্দবাজার পত্রিকার মতো বড় পত্রিকাও বাংলাদেশ নিয়ে একাধিকবার মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। গত ১৮ মাসে আমরা দেখেছি, ভারতীয় মিডিয়া ভয়াবহ মাত্রায় মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছে—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।”

তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিরুদ্ধে কাজ করছে। বাইরে এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এলেও সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে না কিংবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। “ইন্ডিয়ান মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ নিয়মিতভাবে এসব অপতথ্য ছড়াচ্ছে, যা আমাদের সরকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছে,”—বলেন তিনি।

নীতিসংলাপে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, তথ্যই সংবাদের ভিত্তি হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য বিকৃত করা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গণমাধ্যম গণমানুষের কণ্ঠস্বর হতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজকে এই বিভ্রান্তির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশে এখনো একটি গ্রহণযোগ্য ও যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালার অভাব রয়েছে। গণমাধ্যমকে বাণিজ্যিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসে গণমুখী হতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ফসিহ উদ্দিন মাহতাব বলেন, একটি মিথ্যা সংবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতাকে অপব্যবহার না করার জন্য সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, মিসইনফরমেশন এখন শুধু যোগাযোগগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।