গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে গত সাত দশকের অন্যতম ভয়াবহ এল নিনোতে পরিণত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় বিভিন্ন সূচকও এই আবহাওয়া ঘটনার সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের এল নিনো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় অতিবৃষ্টি এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, প্রায় অর্ধেক জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ১৯৫০ সালের পর রেকর্ড করা এল নিনোগুলোর মধ্যে এবারেরটি সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় অস্ট্রেলিয়া ইতিহাসের অন্যতম শুষ্ক সময় পার করেছিল। এর আগে ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোও ব্যাপক খরা ও কৃষি ক্ষতির কারণ হয়েছিল।
জাতিসংঘের World Meteorological Organization জানিয়েছে, এল নিনো সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে এল নিনোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ এবং বছরের শেষভাগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।
জাতিসংঘের মহাসচিব António Guterres এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।