বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, পাইলট পর্যায়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে পাইলট প্রকল্প’–এর অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেশের একটি মূল্যবান দেশীয় জাত, যা দ্রুত বংশবিস্তার, উন্নত মাংসের গুণগত মান এবং উচ্চ বাজার চাহিদার কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে লাভজনক জীবিকার উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক পরিকল্পনায় এ খাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করা। এজন্য খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয়, বরং সরাসরি খামারিদের কাছে গিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সঠিক পরিচর্যা, উৎপাদন কৌশল এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনের জন্য সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও খামারিরা।