ব্রাজিলের জার্সিতে দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর অবসরের ইঙ্গিত দিলেও এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়ে দিলেন— জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ।
মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানায় ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ গোলে হারানোর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।”
এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেছিলেন, “বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।”
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ জয়। এছাড়া ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিয়ে এনে দেন ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।
এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ক্লাবের ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থদের বকাঝকা করার অভিযোগও উঠেছিল নেইমারের বিরুদ্ধে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ম্যাচ শেষে তিনি শুধু দলকে আরও ভালো খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।