বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ব্যালট অনিয়ম ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে ইসির সামনে ছাত্রদলের দ্বিতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ব্যালট পেপারে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১১টা থেকেই মহানগরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবস্থান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবির পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে তারা পক্ষপাতদুষ্ট ও অনিয়মপূর্ণ বলে দাবি করেন।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিনটি প্রধান অভিযোগ হলো—
প্রথমত, পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ নয় এবং এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে ইসি দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তৃতীয়ত, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

ছাত্রদল নেতারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে কর্মসূচির কারণে ইসি কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।