বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বৈশাখের অনুষ্ঠানে কড়া নিরাপত্তা, পার্বত্য এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশে সতর্ক সরকার

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

আসন্ন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের বৈশাখী উৎসবে মিয়ানমারসহ কোনো বিদেশি নাগরিক যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি কার্যপত্র জারি করা হয়।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত নববর্ষের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত করা হবে।

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল এবং রবীন্দ্র সরোবর-এ আয়োজিত সব অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

নববর্ষ ১৪৩৩ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—র‍্যাব, পুলিশ, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন দিনভর বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হাতিরঝিলরবীন্দ্র সরোবর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল থাকবে। ইভটিজিং, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ফানুস ও আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা-তে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।

এছাড়া বড় জনসমাগমস্থলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা এবং হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় রমনা পার্ক-এ ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও সিআইডি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।