বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বৃষ্টির বাধায় মিরপুর টেস্টে উত্তেজনা, লড়াইয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
মিরপুর টেস্টে বৃষ্টির বাধা ও নাটকীয় সেশনে জমে উঠেছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াই। চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই আবহাওয়া ছিল অনিশ্চিত। আকাশে মেঘ জমে থাকলেও খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়েই। তবে দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ফলে একাধিকবার খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।

লাঞ্চ বিরতির সময়ও আকাশ ছিল ভারী মেঘে ঢাকা। মাঠে নামার প্রস্তুতি চললেও আলো স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে দুই দলকেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও দ্বিতীয় সেশন শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে চা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে খেলা শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে প্রথম সেশনে ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও ঘুরে দাঁড়ায় Bangladesh national cricket team। দিনের শুরুতেই দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ২৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। তবে এরপর দৃঢ়ভাবে হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক।

এই দুই ব্যাটারের জুটিতে ধীরে ধীরে চাপ কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তারা গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭০ রানের পার্টনারশিপ, যা ইনিংসকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যায়। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২ উইকেটে ৮৬ রান। পরে বিরতির সময় স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৩ রান, যেখানে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ১২০ রানে।

ইনিংসের শুরুতে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় ব্যাটিংয়ে নামেন। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিংয়ের পরও জয় ৪ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান আব্বাস আফ্রিদির বলে। কিছুক্ষণ পরই সাদমান ইসলামও ১০ রানে আউট হন হাসান আলির বলে, ফলে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের হয়ে বোলিং আক্রমণে সফলতা পান হাসান আলি এবং মোহাম্মদ আব্বাস, যারা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে চাপ তৈরি করেন।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে Pakistan national cricket team শুরুটা ভালো করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে থেমে যায় ৩৮৬ রানে। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয়। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে এগিয়ে ছিল, যা ম্যাচে তাদের সামান্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়।

সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্ট এখন প্রবলভাবে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, ব্যাটিংয়ের ওঠানামা এবং স্পিন বোলিংয়ের প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচটি শেষ দিনের আগে আরও নাটকীয় হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।